“চলনবিল বিশ্ববিদ্যালয়”কেন প্রয়োজন?★অবস্থানগত কারণেঃ”চলনবিল” একটি ঐতিহাসিক বিল, বিশ্বের বড় বিলগুলোর মধ্যে এ বিল অন্যতম। এর ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা বিশাল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর এ তিনটি জেলার প্রায় নয়টি উপজেলায় এ বিল অবস্থিত, উপজেলাগুলো হলঃ ১.তাড়াশ, ২.রায়গঞ্জ, ৩.সলঙ্গা, ৪.উল্লাপাড়ার কিয়দাংশ এ চারটি সিরাজগঞ্জ জেলার, ৫.চাটমোহর, ৬.ভাঙ্গুরা এ দুটি পাবনা জেলার এবং ৭.সিংড়া, ৮.গুরুদাসপুর ও ৯.বড়াইগ্রাম এ তিনটি নাটোর জেলার।এর আয়তন প্রায় আটশ’ বর্গমাইল, সমগ্র চলনবিল বিষুব রেখার ২৪0৩৫’ মিনিট উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯0১০’ হতে ৮৯0৩৫’ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।এ বিশাল জনপথে কোথাও আজ অবধি কোন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়নি তাই এই বিলের কৃষি নির্ভর তুলনামূলক পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দেশের উন্নয়নে অবদান ও শিক্ষাদিক্ষায় অগ্রসর হয়ে সামনের পানে এগিয়ে যেতে চলনবিল অঞ্চলে “চলনবিল বিশ্ববিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়ের দাবি।★ঐতিহাসিক কারণেঃঐতিহাসিকভাবে এ বিল প্রসিদ্ধ ” Imperial Gazetter of India-Eastern Bengal And Assam” এর ২০৮ নং পৃষ্ঠায় চলনবিল সম্পর্কে বলা আছে- ” With the exception of the Lalpur thana, situated on the Padma, most of the sub-division is swampy depression, water logged and abounding in marshes, the largest of which is the Chalan Beel”.আবার “চলনবিল” গ্রন্থের লেখক “প্রমথনাথ বিশী” তাঁর গ্রন্থের ১৯ নং পৃষ্ঠায় চলনবিল সম্পর্কে বলেন-“অনুমান করলে অন্যায় হবেনা যে, চারশত বৎসর পূর্বে এ বিলটি রাজশাহী, পাবনা, বগুড়ার অধিকাংশ স্থান জুড়ে বিরাজ করতো। ব্রহ্মপুত্র ও পদ্মার সঙ্গম স্থলের পশ্চিমোত্তর অংশে চলনবিল বিরাজিত; অবস্থান, আকৃতি, প্রকৃতি দেখে চলনবিলকে উত্তর বাংলার নদনদী-স্নায়ুজালের নাভিকেন্দ্র বললে অত্যূক্তি হবে না।”এ বিল নিয়ে অনেক লেখক অনেক গ্রন্থ লিখেছেন, অনেক কবি কবিতা লিখেছেন, চলনবিলের কৃতি সন্তান অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুল হামিদ স্যার “চলনবিলের ইতিকথা” নামক গবেষণা ও তথ্যবহুল একটি গ্রন্থ লিখেছেন। এসব গুণিজনদেরও ইচ্ছা ছিল দেশের অবহেলিত অঞ্চলটি শিক্ষা-দিক্ষায় এগিয়ে যাক, এঁদের ইচ্ছা পুরুন ও ঐতিহাসিক কারণেও চলনবিলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত জরুরী।★ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেঃচলনবিল অঞ্চলটি বর্ষাকালে প্রকৃতির রূপ-রসে ষোড়শী ললনায় পরিণত হয়, এর প্রাকৃতিক দৃশ্য সকলের মনকে আকৃষ্ট করে, বহু দূরদূরান্ত থেকে লোকজন নৌপথে কিংবা স্থল পথে এখানে বেড়াতে আসে, শাপলা, শালুক, ঢ্যাপ, শিঙ্গট, লিঙ্গট, পদ্মচাকা, মাখনা, সিঙ্গরা, পনসা প্রভৃতি জলজ ফল খেয়ে সবাই খুশি হয়, এমন মন ভোলানো হৃদয় গোলানো প্রাকৃতিক লীলাভূমিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে এবং সুন্দর ও নয়নাভিরাম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে চলনবিলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা খুবই প্রয়োজন।★ মিঠা পানির মাছ বিশ্ব দরবারে পৌছাতেঃচলনবিল মিঠা পানির মাছের আধার। দেশের সিংহভাগ মিঠা পানির মাছ এ বিল থেকে উৎপাদিত ও সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে, এ গৌরবময় অর্জনে চলনবিলের অবদান বিশাল ও ব্যাপক। চলনবিলের তাড়াশ থানার মহিষলুটি মৎস্য আড়ত দেশের অন্যতম সেরা মিঠা পানির মাছের আড়ৎ, এখানে দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যাপারীরা আগমন করে প্রতিদিন গড়ে কোটি কোটি টাকার মাছ কেনা-বেচা করে দেশের সবগুলো জেলায় মাছ চালান করেন, এমন মাছের আধারকে আরও ব্যাপক ও বিশ্বময় করতে এই এলাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা খুবই জরুরী।তাছাড়াও আরো নানাবিধ কারণে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে একটি সুন্দর ও মনোরম জীবনে পদার্পণ করতে চলনবিল অঞ্চলে “চলনবিল বিশ্ববিদ্যালয় “প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত প্রয়োজন, আর এ জন্য দরকার ব্যাপক জনমত গঠন ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ যে কাজে চলনবিলের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের একাত্মতা প্রকাশ ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করা আবশ্যক, আমি আশা করি এ মহান উদ্যোগে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সবাই আমাদের সহযোগিতা করবেন এবং অবহেলিত চলনবিল অঞ্চলকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, অর্থনীতি সহ সামাজিক সকল সূচকে আদর্শ মান অর্জনে চলনবিলে “চলনবিল বিশ্ববিদ্যালয় ” প্রতিষ্ঠা করবেন।সেই সোনালী দিনের প্রত্যাশায় আজ এ পর্যন্তই, সবাইকে ধন্যবাদ, জয়তু “চলনবিল বিশ্ববিদ্যালয় “।

চলনবিল বিশ্ববিদ্যালয়ের Facebook Page-এ (https://www.facebook.com/cbubd) লাইক দিয়ে চলনবিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করুন।